যার যত গরু তার তত বউ

যার যত গরু তার তত বউ

পৃথিবীতে বহু জাতি রয়েছে। যাদের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও বর্ণ একেক রকম। তাদের রয়েছে বিভিন্ন রকম রীতি-নীতি। আজ এমন একটি জাতি সম্পর্কে জানাবো, যে জাতি গরুর দুধ থেকে শুরু করে গরুর মূত্র ও গোবর সবকিছুই খেয়ে থাকেন।

সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী যার যত গরু, সে তত বেশি বউ কিনতে পারেন। নিজেদের থেকে তারা তাদের গরুর বিশেষ যত্ন নিয়ে থাকেন। এমনকি এই সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের গরুকে পাহারা দেয়ার জন্য ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে থাকেন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে জাতি সম্পর্কে-

প্রিয় গরুর সঙ্গে এক মুন্ডারি রাখাল

আফ্রিকার দক্ষিণ সুদান দেশটিতে মুন্ডারি নামের এই সম্প্রদায়ের বসবাস। যারা এক রাখাল সম্প্রদায়ের লোক। গরু লালন-পালনকে কেন্দ্র করে এরা জীবনধারণ করে থাকে। দেশটির রাজধানী যুবার উত্তর নাইল নদীর তীরে এদের বসবাস।

মুন্ডারিদের প্রধান সম্পদ গরু। এরা আনকোল ওয়েতুসি নামক এক প্রকার গরু লালন-পালন করে থাকেন। বিরাট শিংয়ের জন্য এই গরুকে গবাদি পশুদের রাজা বলে ডাকা হয়। এই গরু আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। গড়ে প্রতিটি গরুর মূল্য ৫০০ মার্কিন ডলার।

আফ্রিকার কোনো অঞ্চলের গবাদি পশু হিসেবে এই দাম অনেকটাই অবাক করার মতো। এই কারণে মুন্ডারিদের কাছে এই গরুগুলো স্বর্ণের চেয়েও দামি সম্পদে পরিণত হয়েছে। অধিক পরিমাণে মাংস আর দুধ দেয়ার কারণে চোরা শিকারিদেরও প্রধান লক্ষ্য এই গরু।

গরুর দুধ পান করছেন এক মুন্ডারি কিশোর

এই গরুর শিং আর চামড়াও বেশ লোভনীয়। সব মিলিয়ে এই গরুদের ছিনিয়ে নিতে পারলেই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব। নিজেদের এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য মুন্ডারি রাখালদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। এরা বন্দুক হাতে দিন রাত এই গরুগুলো পাহারা দিয়ে থাকেন।

যখন তখন চোরা শিকারিদের সঙ্গে তাদের গুলির লড়াইও বেঁধে যায়। তাতে হতাহত হয় দুই পক্ষই। কিন্তু মাটি কামড়ে লড়াই চালিয়ে যায় মুন্ডারি রাখালরা। মুন্ডারি রাখালদের জীবনে এই গরুই সবকিছু। গরুই তাদের হাঁটাচলার সঙ্গী। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও রোগের প্রতিষেধক এই গরু।

তাদের বউ

অনেক সময় এই গরু তারা উপসনার কাজেও ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত মাংস খাওয়ার জন্য তারা নিজেদের গরুকে কখনো হত্যা করে না। এর বাজারজাত মূল্য চড়া হওয়ার কারণে অধিকাংশ মুন্ডারি সদস্যদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া এক প্রকার বিলাসিতা।

মুন্ডারিরা আকৃতিতে লম্বা ও পেশীবহুল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। তবে তাদের খাদ্যাভাস খুবই সাধারণ। তারা প্রচুর দুধ ও দই খেয়ে থাকেন। গরুর প্রস্রাবও তারা পান করে থাকেন। গরু যখন প্রস্রাব করে, তখন মুন্ডারি পুরুষরা তা মুখে ধারণ করে।

পশুদের থেকে মাত্র দুই ফুট দূরে রাত্রিযাপন করেন মুন্ডারি রাখালরা

তাদের ভাষ্যমতে, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এতে থাকা অ্যামোনিয়া তাদের চুলকে কমলা রঙে রঙিন করে তুলতে সাহায্য করে। গরুর গোবরের ছাইও তারা মেখে থাকে। প্রতিদিন দুইবার করে তারা তাদের গরুগুলোর শরীর মালিশ করে থাকে।

গোবরের ছাই সম্ভবত গরুগুলোর শরীরে মালিশ করে দেয়। এর মাধ্যমে গরুগুলোকে ক্ষতিকর জীবাণু থেকে সুরক্ষিত রাখেন। গরুগুলো থাকার ঘরে এই ছাই বিছিয়ে দেয়া হয়। রাতে মুন্ডারিরা এই গবাদি পশুদের সঙ্গেই ঘুমান। মুন্ডারিদের পারিবারিক প্রথায় যৌতুক হিসেবে এই গরুগুলোকে ব্যবহার করা হয়।

যাদের অধিক পরিমাণে গরু আছে তারা এর বিনিময়ে স্ত্রী ক্রয় করে থাকেন। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এতটা মজবুত হতে পারে, তা মুন্ডারিরাই প্রকৃত উদাহরণ।

Share this post