fbpx

Desh Amar

Online news Portal

কু’র’বানি মহান আল্লাহর হুকুম। সামথ্যবানদের জন্য তা ওয়াজিব। কিন্তু অনেকেই পশু জবাইয়ের পর আত্মত্যাগের এ ইবাদতে সামান্য সময় বাঁ’চাতে গিয়ে একটি ভুল কাজ করে থাকে। যার ফলে এ পশু জবাই বা কু’র’বানির পরিবর্তে তা হ’ত্যায় পরিণত হয়। কী সেই ভুল? তা থেকে বাঁ’চার উপাই বা কী?কু’র’বানি মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ। তিনি কুরআনে এভাবে নির্দেশ দেন- ‘সুতরাং (আপনি) আপনার প্রভুর জন্য নামাজ পড়ুন এবং কু’র’বানি করুন।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এ ইবাদত পালনের সময় সামান্য একটি ভুলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে কু’র’বানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সে কারণে খুব সতর্কতার সঙ্গে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কু’র’বানি করা জরুরি।কু’র’বানির পশু জবাইয়ের সময় অনেকেই একটি ভুল করে থাকেন। যে ভুলের কারণে কু’র’বানির পরিবর্তে তা হ’ত্যায় পরিণত হয়। জবাইয়ের পর ১০/১৫ মিনিট সময় বাঁ’চাতেই এ ভুলটি করে থাকে। তাহলো-

কু’র’বানির পশু জবাই করার পর দ্রুত পশুর মৃ’ত্যু নিশ্চিত করতে ছু’রি বা চাকুর ধাঁরালো আগা/মা’থা দিয়ে জবেহ করার স্থানের (ঘাড়ের মেরুদ’ণ্ডের) ভেতর আ’ঘাত করে। ফলে মেরুদ’ণ্ডে আ’ঘাত পেয়ে পশুটি দ্রুত নিস্তেজ হয়ে যায়। এ কাজটি কোনোভাবেই ঠিক নয। এতে পশু কু’র’বানি না হয়ে তা হ’ত্যায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।তাই পশু জবাইয়ের পর ১০/১৫ মিনিট অ’পেক্ষা করলেই পশুটি নিস্তেজ হয়ে যায়। র’ক্তশূন্য হয়ে স্বাভাবিকভাবে মা’রা যায়। যা চামড়া ওঠানো ও গোশত প্রক্রিয়ার জন্য উপযু’ক্ত হয়ে যায়।

আ’ঘাতের ক্ষ;তি

জবাইয়ের ওই স্থানে মেরুদ’ণ্ডে ছু’রির আগা দিয়ে আ’ঘাত করলে, অনেক সময় পশু স্বাভাবিক মৃ’ত্যুর আগেই হার্ট অ্যাটাক করে মা’রা যায়। তখন এটি আর কু’র’বানি হয় না বরং তা হ’ত্যায় পরিণত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতেও তা পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি নয়।

মনে রাখতে হবে

যদি কোনো পশু ওই আ’ঘাতে হার্ট অ্যাটাক করে মা’রা যায় তবে ওই ব্যক্তির কু’র’বানি আদায় হবে না। সে কারণে পশু জবাইয়ের পর ১০/১৫ মিনিট সময় অ’পেক্ষা করা উত্তম। কু’র’বানির পশু জবাইয়ের পর কোনোভাবেই এ ভুলটি করা যাবে না।

চিকিৎসা বি;জ্ঞানের আলোকে ক্ষতি ও অ’পকারিতা

পশু জবেহের যে স্থানে তীক্ষ্ণ ছু’রি দিয়ে আ’ঘাত করা হয়, সেটি মূলত- স্পাইনাল কর্ড বা ‘মেরুরজ্জু’-এর অংশ। ছুড়ির আ’ঘাতে পশুর স্পাইনাল কর্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই পশুর দেহ থেকে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পশুটি হার্ট অ্যাটাক করে এবং মা’রা যায়। তখন এটি জবাই সাব্যস্ত না হয়ে হ’ত্যায় পরিগণিত হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এ পদ্ধতিটি অ’ত্যন্ত গর্হিত এবং বিপদজনক কাজ। কেননা স্পাইনাল কর্ডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সব র’ক্ত পশুর দেহ থেকে বের হতে পারে না। পশুর দেহের মাংশপেশিতেই র’ক্ত জমাট বেঁধে যায়। পশু শিরা উপসিরা থেকে পুরোপুরি র’ক্ত বের হতে না পারলে গোশত দুষিত হয়ে যায়।

পশুর এ দুষিত গোশত খেলে অনেক সময় ক্যান্সার, এইচবিএএসসহ অন্তত ১৮ ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে কু’র’বানির পশু জবাই সম্পন্ন করা জরুরি।

পশু জবাই করার সঠিক পদ্ধতি

কু’র’বানির পশুসহ যে কোনো পশু জবাই সম্পন্ন হওয়ার জন্য পশুর মূল ৩টি রগ কে’টে দিতে হয়। ৩টি রগ কে’টে দেয়া হলে পশুর দেহ থেকে সব র’ক্ত বের হয়ে যায়। র’ক্ত বের হয়ে যাওয়ার ফলে পশু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মা’রা যায়। আর এভাবে পশু জবাই করা উত্তম। ফলে কু’র’বানির পশু জবাই বাতিল বা হ’ত্যায় পরিণত হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা থাকে না।সুতরাং কু’র’বানির পশু জবাই হোক নিরাপদ ও বিশুদ্ধ। তা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ করতে জবাইয়ের পর পশুর দেহ থেকে সব র’ক্ত বের হওয়া পরিমাণ সময় অ’পেক্ষা করা জরুরি। ফলে কু’র’বানি হবে বিশুদ্ধ আর কু’র’বানি পশুর গোশতও হবে খাওয়ার উপযু’ক্ত এবং ঝুঁ’কিমুক্ত।

আল্লাহ তাআলা মু’সলিম উম্মাহকে সঠিক উপায়ে কু’র’বানির পশু জবাই করার তাওফিক দান করুন। পশুকে অ’তিরিক্ত ক’ষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় ক্ষ;তি ও রোগ-বালাই থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *