fbpx

Desh Amar

Online news Portal

অবশেষে বরিশালে বাস-লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর বাস ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের অবরোধে জে’লা থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।এর আগে বুধবার গভীর রাতে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের অবরোধের কারণে জে’লা থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজে’লা কমপ্লেক্সে ব্যানার খোলা কেন্দ্র করে ইউএনওর ওপর হা’ম’লার চেষ্টাকালে আনসার সদস্যদের গু’লি ও পু’লিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগকর্মীদের সং’ঘ’র্ষ হয়েছে। এ সময় পাঁচজন গু’লিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আ’হত হয়েছেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও আ’ঘাতপ্রাপ্ত হন বলে মেয়র নিজেই জানিয়েছেন।
আ’হতদের মধ্যে তিন পু’লিশ ও দুই আনসার সদস্য রয়েছেন। বুধবার রাত ১১টার পর বরিশাল সদর উপজে’লার ইউএনও মুনিবুর রহমানের ওপর হা’ম’লার চেষ্টা কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মেয়র অনুসারী নেতাকর্মীরা বুধবার রাত থেকে নগরের রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ টার্মিনাল এলাকায় এলোপাতাড়ি বাস ফেলে রেখে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেয় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ চলাচল। পরে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শেষে দুপুর ১২টার পর বাস ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র রফিকুল ই’স’লা’ম খোকনের বক্তব্য অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার কার্যালয় কম্পাউন্ডে রাতে ব্যানার খুলতে যান নগরভবনের কর্মচারীরা। এ সময় বাসভবন থেকে বের হয়ে উপজে’লা পরিষদ কম্পাউন্ড থেকে ব্যানার খোলার কারণ জানা নিয়ে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মুনিবুর রহমানের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মক’র্তা স্বপন কুমা’র দাসের কথাকা’টাকাটি হয়।

উপজে’লা কমপ্লেক্সে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন আনসার সদস্য জানান, কথা কা’টাকাটির একপর্যায়ে ব্যানার খোলার কথা বলে কম্পাউন্ডে ঢোকা ২৫-৩০ জন ইউএনওর বাসভবনে ঢুকে তাকে ঘিরে ফেলে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে আনসারদের সঙ্গে হাতাহাতির একপর্যায়ে হা’ম’লা চালানো হলে আনসার সদস্যরা গু’লি ছোড়েন। এতে ২-৩ জন গু’লিবিদ্ধ হন।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নগর পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর গু’লির খবর শুনে কয়েকশ নেতাকর্মীও জড়ো হন সেখানে। তাদের নিয়ে মেয়র উপজে’লা কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকতে গেলে দ্বিতীয় দফায় ভেতর থেকে গু’লি ছোড়েন আনসার সদস্যরা। গু’লির মুখে ভেতরে ঢুকতে না পেরে কমপ্লেক্সের বাইরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেন মেয়র সাদিক।

দ্বিতীয় দফা এই গু’লিবর্ষণেও ২-৩ জন গু’লিবিদ্ধ হন। ছাত্রলীগকর্মীরা এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ একটি বাস ভাঙচুর করে। পরে মেয়র ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।উপজে’লা কমপ্লেক্সে এসব ঘটনা চলার মধ্যেই সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছায় বিপুলসংখ্যক পু’লিশ। বাস ভাঙচুরসহ সড়ক অবরোধ ঠেকাতে গেলে তাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়, সেখানে থাকা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগকর্মীদের সঙ্গে। এতে পু’লিশসহ আ’হত হন ৩০ জন। একপর্যায়ে পিছু হটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা। এরই মধ্যে নগরভবনের বেশ কয়েকটি ময়লা ফেলার গাড়ি এনে এলোপাতাড়ি ফেলে রেখে অবরোধ করা হয় ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক।

স্তূপাকারে নাগরিক বর্জ্য ফেলা হয় মহাসড়কে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল। পরে রাত ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।গু’লিবিদ্ধ আ’হতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা শাহরিয়ার বাবু, হারুন অর রশিদ ও তানভীর নামে তিনজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থায় অবনতি হলে তানভীরকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মুনিবুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৮-১০টি মোটরসাইকেলে ১৫-২০ জন আমা’র উপজে’লা পরিষদ কমপ্লেক্সে ঢুকে ঘোরাফেরা করছিল। আমি তাদের এখানে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জো’র করে আমা’র ঘরে ঢুকে পরে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল রাজীব নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি নিজেই তার পরিচয় দিয়েছেন।পরে আনসার সদস্যরা তাদের বের করে দেন। খানিকক্ষণ পর ৬০-৭০ যুবক হঠাৎ করে আমা’র বাসার ভেতরে ঢুকে পরে এবং দোতলায় উঠে আসে। আমি জানতে চাইলে তাদের একজন নিজেকে মাহমুদ হাসান বাবু এবং আরেকজন সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত এবং দুজনেই নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দেয়।

তারা আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আনসার সদস্যরা আমা’র প্রা’ণ বাঁ’চান। এর পর কয়েকশ লোক এসে কমপ্লেক্সে হা’ম’লা চালায়। তারা গেট ভে’ঙে ফেলাসহ অনেক ক্ষতি সাধন করেছে।রাত সাড়ে ৩টায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তার বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিসিসির কর্মীরা সেখানে তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। অথচ তাদের ওপর ন্যক্কার জনকভাবে গু’লি চালানো হয়েছে। ঘটনা স’ম্প’র্কে জানতে আমি সেখানে গেলে আমা’র ওপরও গু’লি চালানো হয়েছে। আমা’র বহু নেতাকর্মী আ’হত হয়েছেন। গু’লিবিদ্ধও হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ত’দ’ন্ত চাই। বিচার চাই। এভাবে তো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *