রাকিব-তামিমা’র তালাকনামা ‘জা’লি’য়াতি করেছেন’ যিনি

রাকিব-তামিমা’র তালাকনামা ‘জা’লি’য়াতি করেছেন’ যিনি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী’ কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মির বি’রু’দ্ধে আ’দা’লতে চার্জশিট (অ’ভিযোগপত্র) দাখিল করেছে মা’ম’লার ত’দ’ন্ত সংস্থা পিবিআই। চার্জশিটে তাদের বিয়ে বৈ’ধ উপায়ে হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্ম’দ জসীমের আ’দা’লতে চার্জশিট দেন মা’ম’লার পিবিআইর ত’দ’ন্ত কর্মক’র্তা মিজানুর রহমান। মা’ম’লার ত’দ’ন্তে ক্রিকেটার নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মী ও তামিমা’র মা সুমি আক্তারকে দো’ষী উল্লেখ করে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে পিবিআই উল্লেখ করে, নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে বৈধ উপায়ে হয়নি। তামিমা ও রাকিব হাসানের বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত নথি জা’লিয়া’তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। রাকিব হাসানকে ডি’ভোর্স না দিয়েই তাম্মি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, তালাক বৈধ না হওয়ায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মী এখনো ব্যবসায়ী রাকিব হাসানের স্ত্রী’।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, তালাক যথাযথ হয়নি জেনেও নাসির বিয়ে করেছেন তামিমাকে। তামিমা রাকিবকে তালাক দেননি। আইনগতভাবে রাকিব তালাকের কোনো নোটিশও পাননি। তামিমা উল্টো জা’লিয়া’তি করে ডাকবিভাগের তালাকের নোটিশ তৈরি করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালাক না দেওয়ার ফলে তামিমা তাম্মী এখনও রাকিবের স্ত্রী’ হিসেবে বহাল রয়েছেন। দেশের ধ’র্মীয় বিধিবিধান ও আইন অনুযায়ী এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা অ’বৈ’ধ এবং শা’স্তিযোগ্য অ’প’রা’ধ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা তাম্মীর বিয়ে অ’বৈ’ধ বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্ম’দ জসীমের আ’দা’লতে তাম্মির সাবেক স্বামী মো. রাকিব হাসান মা’ম’লা’টি করেন। পরে আ’দা’লত বাদীর জবানব’ন্দি গ্রহণ করে নথি পর্যালোচনা শেষে মা’ম’লা’টি পিবিআইকে ত’দ’ন্ত করার নির্দেশ দেন।

মা’ম’লার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি মে’য়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসিরের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে গণমাধ্যমে তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জেনেছেন।’

মা’ম’লায় অ’ভিযোগ করা হয়েছে, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক স’ম্প’র্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধ’র্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অ’বৈ’ধ। নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন।’

এ বিষয়ে পিবিআই প্রধান বনজ কুমা’র মজুম’দার বলেছেন, প্রথম স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক হওয়ার ক্ষেত্রে যে নিয়ম মানা দরকার ছিল- তা মানা হয়নি। তামিমা’র মা সুমি আক্তার বেশ কিছু জালিয়াতিও করেছেন।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমা’র মজুম’দার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত থাকে। কাজীকে অবহিত করা, তালাক যাকে দেওয়া হবে, তার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া। এই তিনটি শর্তের পরের দুটি তামিমা’র ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করা হয়নি। চার্জশিটে নাসিরের বি’রু’দ্ধে ‘অন্যের স্ত্রী’কে প্রলুব্ধ’ করে নিয়ে যাওয়া, ‘ব্যাভিচার’ এবং তামিমা’র আগের স্বামীর মানহানি ঘটানোর অ’ভিযোগ আনা হয়েছে। আর সব ‘জেনেও’ বিয়েতে সহায়তা করায় তামিমা’র মাকে চার্জশিটে আ’সা’মি করা হয়েছে।

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, তালাকের ব্যাপারে যেসব কাগজ তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো তামিমা’র মা সুমি আক্তার জালিয়াতির মাধ্যমে করেছেন। ডাক বিভাগের কাগজসহ যেগুলো জালিয়াতি করা হয়েছে, সেগুলো তিনিই করেছেন।

বনজ কুমা’র মজুম’দার আরও বলেন, তামিমা দাবি করেছেন- রাকিবকে তিনি তালাক দিয়েছেন ২০১৬ সালে। অথচ ২০১৮ সালের তার তোলা পাসপোর্টে রাকিবকেই তিনি স্বামী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তার সমস্ত কর্মকা’ণ্ডকে এ বিষয়টিকে সা’পোর্ট করছে। রাকিবকে যে ঠিকানায় চিঠি দেওয়ার কথা তিনি বলেছেন, সেই ঠিকানায় রাকিব থাকতেন না। আর যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে, সেই চেয়ারম্যানও কোনো চিঠি পাননি।

 

Source : jugantor

jugantor

অপরাধ