ক্ষতির হাত থেকে বাচতে এই ব্যায়াম গুলো এড়িয়ে চলুন

ক্ষতির হাত থেকে বাচতে এই ব্যায়াম গুলো এড়িয়ে চলুন

শারীরিক অনুশীলন বা ব্যায়ামের কিছু নিয়ম মানতে হয়। এছাড়া সব ব্যায়ামই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও জেনে রাখা উচিত। এ লেখায় রয়েছে সাত ধরনের ব্যায়াম, বিভিন্ন কারণে যেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

১. স্পট রিডাকশন এক্সারসাইজL কোনো স্থানের ফ্যাট কমানোর জন্য ‘স্পট রিডাকশন’ এক্সারসাইজ করা হয়। এটি বহু মানুষেরই প্রিয় এক্সারসাইজ। যদিও এটি তেমন কোনো কাজে আসে না। এর কারণ হলো সারা দেহের পরিবর্তন না করে কোনো স্থানের ওজন কমানো অযাচিত বিষয়। তাই এ ব্যায়াম না করে সারা দেহের ওজন কমানোর উপযোগী ব্যায়ামই করা উচিত।

২. লেগ এক্সটেনশনস (বসে): অনেক জিমেই বসে থেকে লেগ এক্সটেনশনস নামে একটি অনুশীলন করার ব্যবস্থা থাকে। থাইয়ের পেশি গঠনের জন্যে বেশ জনপ্রিয় একটি ব্যায়াম যা আসনে বসে ওজন ওপরের দিকে তুলতে হয়। তবে এটি হাঁটুর জয়েন্টে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া যাদের হাঁটুতে সমস্যা রয়েছে তাদের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে ব্যায়ামটি এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. লেগ প্রেস: আরেকটি বিপজ্জক ব্যায়ামের নাম লেগ প্রেস। এতে ঢালু তলে শুয়ে ওজন পা দিয়ে ওপরের দিকে তুলতে হয়। বলা হয়, এতে উরুর পেছনের অংশ, হাঁটুর ওপরের চারদিক এবং পেটের পেশি গঠন হয়। অথচ এই ব্যায়ামের সঙ্গে এসব অংশের পেশির কোনো সম্পর্কই নেই। মূলত মেরুদণ্ডের নিচের অংশে মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ায় এ ব্যায়ামটিকে এড়িয়ে চলতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এটি মেরুদণ্ডের নিচের অংশের ইনজুরি সৃষ্টি করতে পারে বলে জানান বহু বিশেষজ্ঞ। এ ব্যায়ামের বদলে বডি ওয়েট স্কোয়াটস করতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. সিটেড অ্যাবডাকশন: এটি লেগ প্রেসের মতোই আরেকটি বিপজ্জনক অনুশীলন। একটি রাবার ব্যান্ড দুই হাঁটুতে বেঁধে পা দুটোকে বিপরীত দিকে টানতে হয়। খুব চটপট নড়াচড়ার জন্যে এই ব্যায়ামটি কাজে দেয় বলা হলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে লাগে না। এটি মেরুদণ্ডে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই এ ব্যায়াম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. লেগ কার্লস: লেগ কার্লস নামে ব্যায়ামটিও এড়িয়ে চলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যায়ামের জন্য বেঞ্চে উপুর হয়ে শুতে হয় কনুইয়ে ভর দিয়ে। এরপর পা দুটো দিয়ে ওজন টেনে ওপরে ওঠাতে হয়। এ ব্যায়ামটি এড়িয়ে চলার কারণ হিসেবে জানা যায়, ব্যায়ামটি কার্যকর নয়।

৬. সিট আপস: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ গাইডলাইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তির মেরুদণ্ডের ওপর কখনোই ৩৪০০ নিউটনের বেশি চাপ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু সিট আপস ব্যায়ামে প্রায় ৩৪১৩ নিউটন চাপ পড়ে। এ চাপে মেরুদণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণেই সিট আপস ব্যায়ামটি পরিহার করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ল্যাট পুলডাউন (মাথার পেছনে): বেঞ্চে বসে পুলির মাধ্যমে মাথার পেছন দিকে ওজন টানার এই পদ্ধতি বহুল প্রচলিত একটি ব্যায়াম। কাঁধের পেশি বাড়াতে ব্যায়ামটি কার্যকর বল মনে করেন অনেকে। কিন্তু নিখুঁতভাবে ব্যায়ামটি না করতে পারলে পিঠে যেকোনো ধরনের বড় ধরনের আঘাত সৃষ্টি হতে পারে। তাই এটি না করাই ভালো।

স্বাস্থ্য