পরীমনির জন্মদিনের সাজ ও নাচ ঘিরে সমালোচনার ঝড়

পরীমনির জন্মদিনের সাজ ও নাচ ঘিরে সমালোচনার ঝড়

২৪ অক্টোবর, রবিবার হোটেল রেডিসন ব্লুতে ৩০তম বার্থডে পার্টির আয়োজন করেন আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। আয়োজন শুরু হয়েছিল রাত ৮টা থেকে। জন্মদিনে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য ড্রেস কোড ছিল ছেলেদের সাদা এবং মেয়েদের লাল রঙের পোশাক। সেই নিয়ম মেনেই সকলে উৎসবে হাজির হন। অতিথিদের সঙ্গে ম্যাচিং করে পরীমনি সেজেছিলেন সাদা ও লাল রঙের মিশ্রণে।

এদিন অনেকটা বিমানবালার সাজে ধরা দেন বিতর্কিত এই নায়িকা। গায়ে ছিল লাল রঙের শার্ট, যেটি পেট বরাবর বাধা। সঙ্গে পরেছিলেন সাদা ধুতির মতো এক ধরনের পোশাক, সেটি আবার লুঙ্গির মতো করে কাছা দেওয়া। অর্থাৎ, উরু থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পুরোই উদোম। গ্রামঞ্চলে এমন ভাবে লুঙ্গি বেধে কৃষকদের ক্ষেতে কাজ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, নায়িকার মাথায় ছিল লাল-সাদা ওড়না প্যাঁচানো, সঙ্গে পালক। পায়ে লাল জুতা।

হোটেল রেডিসন ব্লুতে পরীমনির জন্মদিনের এই জমকালো আয়োজন এবং সাজ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও হয়েছে। সেখানেই নায়িকার এমন সাজকে অশ্লীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্ট হওয়া খবরের কমেন্ট বক্স ভরে গেছে নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য। নারী নেটিজেনরাই বেশি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন পরীমনির সাজ নিয়ে। এমন সাজে উল্টাপাল্টা নেচেও সমালোচিত হয়েছেন নায়িকা।

আফসানা সোমা নামে এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘ড্রেসটা এতো বিশ্রী আর রুচিহীন! সাংবাদিক সোস্যাইটিগুলোতে যে বুভু;ক্ষা লোকজন কাজ করে এসব কাহিনিতেই বোঝা যায়। কোনো সুস্থ মগজের মানুষ এসব সাপোর্ট করবে না। আনন্দ করো। তাতে শিল্প চর্চা ও সৌন্দর্য রাখো।’ সোমা তার মন্তব্যের সঙ্গে দিয়েছেন রাগের ইমোজি।

মেহরুন রুমা নামে একজন লিখেছেন, ‘নূন্যতম লজ্জাবোধও যদি অবশিষ্ট থাকতো, তাহলে এ ধরনের প্রোগ্রাম আর করতো না। ওর মমকেও দেখলাম কেক খাওয়াতে। সবকিছু মিলিয়ে আমি নিজেই কেন জানি লজ্জা পাচ্ছি। কারণ, আমিও একজন নারী।’

শামীমা আক্তার শোভা লিখেছেন, ‘ঠিকই ফুল অ্যানার্জি নিয়ে এখন লাফালাফি করছে। কিন্তু যেই কোর্টে হাজিরা দেওয়ার ডেট পড়বে, সেই অসুস্থ হয়ে পড়বে।’ ফাহিমা আক্তার রূপা লিখেছেন, এটা জন্মদিন নয়, এটা নোংরামি।’ বীনা নামে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে এরকম নায়িকা আর দুটো নেই। লজ্জাজনক।’

নাহার আক্তার নামে একজন লিখেছেন, ‘কতটা নির্লজ্জ হলে একজন নারী এমন করতে পারে…!!! আমি একজন নারী হিসেবে লজ্জিত।’ জাহানারা মুক্তি নামে একজন পরীমনিকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে কটাক্ষ করেছেন। মাকসুদা রেবা নামে একজন লিখেছেন, ‘জীবনে যা না পাওয়ার কথা ছিল, সেটা পেয়ে গেলেই মানুষ এমনটা করে।’

এএনএম শামসুল হুদা নামে এক ব্যক্তির মন্তব্য, ‘এটা জন্মদিন নয়। এটা হলো নির্লজ্জ অপসংস্কৃতি। আমাদের চলচ্চিত্রে কবরী, ববিতার মতো হিরোইন পেয়েছি। যারা আমাদের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। ধিক এ আয়োজনকে। আবার মিডিয়া এটাকে ফলাও করে প্রচার করে। আমাদের টেলিভিশন মিডিয়াগুলো অপপ্রচারে বেশি বেশি প্রাধান্য দেয়।’

এছাড়া অসংখ্য নেটিজেন অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় পরীমনির জন্মদিনের সাজ ও নাচের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ আবার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন, যেগুলো প্রকাশযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, পরীমনির এবারের জন্মদিনের অতিথি তালিকা ছিল সংক্ষিপ্ত। চলচ্চিত্র জগত থেকে পরিচিতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুধু নায়িকার ‘স্বপ্নজাল’ এবং শুটিং চলতি ‘গুনিন’ ছবির পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম। আরও ছিলেন পরীমনির ‘মম’ হিসেবে পরিচিত নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। এছাড়া ছিলেন নায়িকার নানা শামসুল হক গাজী, কাছের কয়েকজন আত্মীয় এবং পরীমনি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক।

এর আগে গত বছর শাহবাগে অবস্থিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জন্মদিনের পার্টির জমকালো আয়োজন করেছিলেন পরীমনি। সেই পার্টি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। তার আগের বছর নায়িকার জন্মদিনের পার্টি হয়েছিল হোটেল সোনারগাঁয়ে। সেখানেও আয়োজনের কোনো ঘাটতি ছিল না।

বিনোদন