fbpx

Desh Amar

Online news Portal

বছরখানেক আগে একজনের অনুরোধে ব্যাংকের হিসাব খোলার জন্য নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করেছিলেন শেখ অহিদুল ইসলাম। তারপর তিনি কোনোদিন ব্যাংকে যাননি, লেনদেনও করেননি। পরে অন্য ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড করতে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে দেখতে পান, তাঁর ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৯০ লাখ টাকা। হতবাক হয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন এ তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া শাখা।

এ ঘটনায় এনআরবিসি ব্যাংকের গ্রাহক শেখ অহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনার দৌলতপুর থানায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে আসামি করে খুলনার দৌলতপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নিয়ে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য বিধি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খুলনা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক নাজমুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রাজিব মোটরসের স্বত্বাধিকারী শেখ অহিদুল ইসলামের কাছে পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ী রাব্বী এন্টারপ্রাইজ আব্দুল হালিম শেখ এনআরবিসি ব্যাংকে হিসাব খোলার জন্য ব্যাংকের ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে যান। কোনো টাকা জমা না দেওয়ায় অহিদুল ইসলামের আর বিষয়টি স্মরণে নেই। এ বছর তিনি খুলনার ব্র্যাক ব্যাংকে একটি ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর এনআরবিসি ব্যাংকের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া শাখায় ৯০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে, যা গত ৬ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছে। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩ জানুয়ারি।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, শেখ অহিদুল ইসলামের অগোচরে তাঁর ওই হিসাবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে চেকবই গ্রহণ, পে অর্ডার এমনকি ব্যাংকের সুদও পরিশোধ করা হয়েছে।

মামলায় এনআরবিসি ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মোশারেফ হোসেন, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) শাহেদ শরীফ, জুনিয়র কর্মকর্তা বদিউর রহমান, ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম শেখসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

এনআরবিসি ব্যাংক কলারোয়া শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মোশারেফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঋণ জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘শেখ অহিদুল ইসলাম অভিযোগ করার পর এ টাকা সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহকের কোনো অভিযোগ নেই।’

ব্যাংকে না গিয়ে কোনো আবেদন না করলেও ৯০ লাখ টাকা ঋণ কীভাবে হল, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বারবার টাকা সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করতে থাকেন এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করার অনুরোধ জানান। কাজী মোশারেফ হোসেন জানান, ঠিকাদারি কাজের বিপরীতে এ ঋণ দেওয়া হয়েছিল।

শেখ অহিদুল ইসলাম বলে, ‘আমি কোনোদিন ওই ব্যাংকে যাইনি। হিসাব খোলা ফরম ছাড়া কোনো কাগজে সই করিনি। কোনো লেনদেন বা চেক বইয়ের জন্য আবেদনও করিনি। সেখানে ৯০ লাখ টাকার ঋণ। এটা বড় ধরনের জাল জালিয়াতি। আর, এর সঙ্গে ব্যাংকের বড় সিন্ডিকেট চক্র জড়িত। ব্যাংকে অভিযোগ করার পর তারা টাকা সমন্বয় করে দিয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এখন বারবার ফোন করে ক্ষমা চাচ্ছেন এবং অভিযোগ না করার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন।’
source:NTV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *