আর্থিক সংকটের কারণে সেই নৌকা বিক্রি করবেন!

আর্থিক সংকটের কারণে সেই নৌকা বিক্রি করবেন!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আম’রা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি, এবং তার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ! তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ যেন দেহ ও আত্মা’র মত এক অবিচ্ছেদ্য অংশ আমাদের কাছে!

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সড়ক ও পানি—দুই জায়গাতেই চলার নৌকা তৈরি করে আলোচনায় এসেছিলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজে’লার মো. ইউসুফ মিস্ত্রি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে গত বছরের ১৭ মা’র্চ নৌকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া ও আর্থিক সংকটের কারণে নৌকাটি বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ইউসুফ।

নৌকার মিস্ত্রি ইউসুফ উপজে’লার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চর কলাকো’পা গ্রামের বাসিন্দা। দৈনিক ভিত্তিতে তিনি নৌকা তৈরি করেন। টানা তিন বছর রাতজাগা শ্রমে তৈরি নৌকাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ভালোবাসা থেকে নাম দেন ‘জল-ডাঙা মুজিব পরিবহন’।

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন বছর অক্লান্ত পরিশ্রমে নৌকাটি তৈরি করেছেন ইউসুফ। ২০১৯ সালে কাজ শুরু করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে নৌকাটি তৈরি করতে। দিনে অন্যের নৌকা তৈরিতে মিস্ত্রির কাজ করতেন। আর রাতে নিজেদের স্বপ্নের নৌকা তৈরির কাজ করতেন তাঁরা। এই কাজে মো. করিম ও মো. আলাউদ্দিন তাঁকে সহযোগিতা করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, উভচর নৌকাটিতে গাড়ির মতো গিয়ার, হেড লাইট, ইন্ডিকেটর, ফ্যান, মিটার, হর্ন আছে। আবার নদীতে চলার জন্য পেছনে দুটি পাখা রয়েছে। এতে ২৪ জন যাত্রী বসাতে পারবেন। নৌকাতে উঠতে কাঠের সিঁড়ি ছাড়াও জানালা আছে।

এলাকাবাসী জানান, দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও স্বপ্ন ও আন্তরিক চেষ্টায় নৌকাটি তৈরি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই নৌকাটি বিক্রি করতে চাইছেন।ইউসুফের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘গত বছরের ১৫ মা’র্চ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিকদের উপস্থিতিতে নৌকাটি উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমা’র ছে’লের তৈরি করা নৌকায় একটু উঠতেন, তাহলেই ছে’লের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হতো। আম’রা অনেক শান্তি পেতাম।’

জাতীয়