চীনের তৈরি বিশ্বে প্রথম ক’রোনার ভ্যাকসিন যারা প্রথমে পাচ্ছেন

ক’রোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে চীনে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে ক’রোনায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটির বেশি। এতে মা’রা গেছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের শতাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন এগিয়ে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে এবার ক’রোনার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে চীন। সোমবার (২৯ জুন) এ খবর দিয়েছে ইয়াহু নিউজ।

খবরে বলা হয়েছে, নভেল ক’রোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য চীনের তৈরি আটটি ভ্যাকসিন দেশে এবং বিদেশে মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন পায়। সামরিক বাহিনীর গবেষণা শাখা এবং স্যানসিনো বায়োলজিকসের তৈরি এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সেগুলোর একটি। এই ভ্যাকসিনটি কানাডায় মানবদেহে পরীক্ষারও অনুমতি পেয়েছে।

স্যানসিনো বলেছে, চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন গত ২৫ জুন এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের দেহে এক বছরের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। স্যানসিনো বায়োলজিকস এবং একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সের (এএমসি) একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।

ভ্যাকসিনটির সামরিক ব্যবহারে চায়না সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন বিভাগের অনুমোদনের ব্যাপারে স্যানসিনো বলছে, বর্তমানে এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটি শুধু সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকবে। লজিস্টিকস সাপোর্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন ছাড়া বৃহৎ পরিসরে টিকাপ্রদানের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা যাবে না।

ভ্যাকসিনটি সৈন্যদের জন্য নেয়া বাধ্যতামূলক কিংবা ঐচ্ছিক কিনা সে ব্যাপারে বাণিজ্যিক গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি স্যানসিনো। এ ব্যাপারে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক ই-মেইল বার্তায় স্যানসিনোর কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনের সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির আরও দুটি কো’ভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিদেশ সফরে যাওয়া দেশটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরে প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপরই সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেহে নতুন এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হলো।

স্যানসিনোর এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিনটির প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা যায়, নভেল ক’রোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কো’ভিড-১৯ প্রতিরোধ করার স’ক্ষমতা রয়েছে ভ্যাকসিনটির। তবে চীনা এই কোম্পানি বলেছে, এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনটির বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না।

বিশ্বজুড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নভেল ক’রোনাভাইরাসের এখনও চূড়ান্ত কোনও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক ডজনেরও বেশি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এছাড়া শুধু চীনের তৈরি ৮টি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের পর্যায়ে রয়েছে।

Check Also

এক নজরে যে ২০ দেশের স’ঙ্গে ভূখণ্ড নিয়ে দ্ব’ন্দ্ব চীনের

বর্তমানে গলওয়ান উপত্যকা নিয়ে উত্তেজনা চলছে ভারত ও চীনের মধ্যে। এরই মধ্যে গত ১৫ জনু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *