বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহার, সঙ্গে ডাটা সুরক্ষার ঝুঁকিও

কো’ভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়ে বেড়েছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ শতাংশ। বর্তমানে, বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে বাসা থেকে অফিসের কাজ, দূরে থাকা প্রিয়জন ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ চলছে। আর এটা এ সময়ে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি বাড়িয়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

বর্তমানে, অনেক কমিউনিকেশন অ্যাপ এসেছে এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এগুলো মূলত ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ অথবা মোবাইল ভিডিও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীর তথ্য তৃতীয় পক্ষকে কিংবা বাইরে দেয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারে, যা বাড়িয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। কো’ভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। যদিও, বর্তমানের প্রতিকূল সময়ে এই অ্যাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কিন্তু একইসাথে মাথায় রাখতে হবে, এই অ্যাপগুলো রিয়াল টাইমে স্টোর লোকেশন ডাটা প্রসেস করে।

অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব শখের বিষয় নিয়ে এবং পছন্দানুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপ কিংবা কমিউনিটির সাথে যুক্ত হয়। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোও এখন অনেক সক্রিয় এবং এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটাতে এগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু, এ পাবলিক গ্রুপগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ব্যবহারীর প্রোফাইলের তথ্য অপরিচিত মানুষকে দিতে পারে। অন্য মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বার্তা স্ক্যান করে প্রাপ্ত তথ্যগুলো টার্গেটিং ও অ্যাডভার্টাইজিংয়েও ব্যবহার করতে পারে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার এই বৈশ্বিক মহামারির কালে তাহলে ব্যবহারকারীরা কোন অ্যাপগুলোর ওপর আস্থা রাখবেন, যা একই সাথে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও সুরক্ষিত রাখবে? বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মেসেজিং অ্যাপ রাকুতেন ভাইবার বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীর অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।

এ নিয়ে রাকুতেন ভাইবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জামেল আগাওয়া বলেন, অন্য অ্যাপের মতো ভাইবার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে ব্যবহারকারীর ডাটা ব্যবহার করে না এবং কোথাও বিক্রি করে না। ভাইবারের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনক্রিপ্টেড থাকে এবং তাই ভাইবারের কারও পক্ষে ব্যবহারীর বার্তা বা তথ্য দেখা অসম্ভব। ব্যবহারকারীর পাঠানো প্রতিটি ব্যক্তিগত বার্তা শুধুমাত্র যাকে পাঠানো হয়েছে, সেই শুধু তার ব্যবহৃত ডিভাইসেই পড়তে পারবেন।

নিজেদের ডিভাইসের তথ্য সুরক্ষিত করতে ব্যবহারকারীরা কিছু নির্দেশনাও অনুসরণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে, ফোনের প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেয়া যেতে পারে। এখানেই ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন ডিভাইসে কোন কোন অ্যাপ রয়েছে এবং ওই অ্যাপে কোন ডাটা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া আছে। ব্যবহারকারী যদি একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ চিহ্নিত করে তার উপযোগিতা কমাতে চান তাহলে টোগল সুইচে ট্যাপ করে অ্যাপটিকে ডিজ্যাবল করে রাখা যাবে।

ব্যবহারকারী যদি শেয়ারড ডিভাইসে থাকেন, তবে এক্ষেত্রে তার টাইপকৃত সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখতে অটোফিল টার্ন অফ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ ব্যবহারের পর অবশ্যই লগ আউট করতে হবে। এতে করে, পরের ব্যবহারকারী আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল দেখতে পারবে না।

অ্যাপ ইন্সটল করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হতে হবে। অ্যাপ স্টোর কিংবা প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করাই নিরাপদ। তবে, এক্ষেত্রেও, দেখতে হবে এগুলো বিশ্বস্ত বা নিরাপদ কিনা। মনে রাখতে হবে, অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ডাটা সংগ্রহ করে থাকে বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ব্যবহার করে। ফোনের প্রতিটি অ্যাপে প্রবেশের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেকটি অ্যাপেরই নিরাপত্তা সমস্যা হতে পারে। ব্যবহারকারী হয়তো নাও ভেবে থাকতে পারেন, কিন্তু ব্যবহারকারীর ছবি এডিটিং অ্যাপ কন্ট্যাক্টস, লোকেশন ও প্রোফাইলে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ব্যবহারকারীরা যে অ্যাপটি কম ব্যবহার করে তা ডিলিট করাই ভালো। এবং এতে ব্যবহারকারীর ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে।

ভাইবারে ডিফল্ট এনক্রিপ্টেড চালু হওয়ার পর, ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হওয়া নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ‘রাকুতেন ভাইবার ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য আমরা গর্বিত। আমরা কখনোই ব্যবহারকারীর ডাটা বিক্রি করবো না। এমনকি ব্যবহারীর তথ্য আমরা দেখতেও পাই না,’ বলেন জামেল আগাওয়া।

অনলাইনে সকল ব্যক্তিগত যোগাযোগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বেশ কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে, তারা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন সে সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করে অনলাইনে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ইন্টারনেটে তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবেন এবং নিরাপদে পরিচিতদের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন।

Check Also

ইতালি থেকে ফিরিয়ে দেয়া বাংলাদেশীদের নিয়ে কী করা হবে?

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন বিমানবন্দরে উপসর্গ ধরা পড়লে আইসোলেশনে পাঠানো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *